বিদেশী সংস্কৃতির দালালী

Thursday, January 8, 2009

আজ মুসলমানদের আশুরা। বাংলাদেশের মুসলমানরাও এটা পালন করছে। মজার ব্যাপার হলো, যারা বাঙালি সংস্কৃতির জন্য জান পেরেশান করতে করতে, বাঙালি সংস্কৃতির জন্য গলাবাজি করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, তারাও মহাসমারোহে এই আরবীয় ইতিহাসটিকে স্মরণ করেছেন। তারা একবারও ভাবেননি যে এই বিদেশী ইতিহাস আমাদের জীবনে কিভাবে প্রয়োগ করবো, কিভাবে তাকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে একীভূত করবো বা আমাদের কাছে আরবীয় সংস্কৃতি পালনের কি মাজেজাই বা আছে। যারা সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন, তারাও এইসব বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন সম্পর্কে নীরব। তাদের মুখে আরব নামক মরুভূমির একটি দেশের ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের ধর্মীয় মজমা তোলার অসারতা সম্পর্কে কিছু নেই। এইসব বিদেশী ধর্ম-সংস্কৃতির ফলে আমাদের দেশের নিজস্ব ধর্মসংস্কৃতি কিরূপ অবস্থা ধারণ করেছে কিংবা এই সব বিদেশী ধর্ম-সংস্কৃতি আমাদের দেশের ধর্ম-সংস্কৃতি সম্পর্কে কি ধরণের বাজে ধারণা ও আজেবাজে গালাগালি প্রচার করে তা সম্পর্কেও তারা কিছু বলেন না।

আরবী এই ইতিহাসের তথা আশুরার কাহিনী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অপচিন্তা তথা বিদেশী সংস্কৃতির দালালেরা (মুসলমানরা) যাই বলুন না কেন, আদতে যে এটা বিধবা নারীকে নিয়ে ত্রিভূজ প্রেম তা আর কারও কাছে অজানা নেই। নবীর নাতি যে নারীর প্রেমে পড়েছিল, সেই নারীকে ভালবাসতো এজিদ। এজিদ ছিল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। আর রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে নারী নিয়ে ঝগড়া করার যা পরিণতি, তাই হয়েছিল। এজিদ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কেমন ছিল, জনগণের সুযোগ সুবিধার প্রতি কেমন আগ্রহী ছিল, তা কিন্তু কেউ আলোচনা করে না। হাসান-হোসেন মুহম্মদের নাতি ছিল বলে কি তাদের জন্য সাতখুন মাফ নাকি? তারা একজন নারীর প্রেমে পড়লো (সেকালে প্রেম বলে কিছু ছিল না, যৌন আগ্রহই ছিল তখনকার প্রেম) আর দেশের রাজার সাথে ঝগড়াবিবাদে জড়িয়ে পড়লো আর মুসলমানরা সেই ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লো, কি অদ্ভূত, কি অপগণ্ড। আর বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজ দেশের পৌরাণিক ইতিহাস বাদ দিয়ে বিদেশী ইতিহাস নিয়ে মাতম শুরু করে দিল। ভাবতে আর অবাক লাগে না। আমি যদি ইসলাম ধর্মকে আমার জীবন থেকে পদাঘাত না করতাম। যদি ইসলামের ভণ্ডামীগুলোকে না চিনতাম, তাহলে হয়তো আমিও অমনটা ভাবতাম। ধন্যবাদ আমার বাবাকে। আমার মাকে ধন্যবাদ। তাদের কারণেই না আজ আমি বিদেশী সংস্কৃতির দালালীর লজ্জ্বা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি।

0 comments:

Post a Comment

পদচিহ্ন

Blog Archive

মুক্তমনা বাংলা ব্লগ

  © Dristipat

Back to TOP