থলের বিড়াল বেড়িয়ে গেল

Monday, June 15, 2009

ধন্যবাদ ওয়াদাদ লুতাহ। সত্যকে প্রকাশ করে দেয়ার জন্য। আপনার মতো এত নিঃসংকোচে নিরেট সত্যকে আর কেউ সারা বিশ্বের সামনে প্রকাশ করে দিতে পারে নাই। আপনি তথাকথিত ধর্মীয় সমাজের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা ভণ্ডামী ও নষ্টামোকে প্রকাশ করে ফেলেছেন।

ওয়াদাদ লুতাহ একজন ম্যারিজ কাউন্সেলর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আট বৎসর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ৪৫ বৎসর বয়সী বাদামী চোখের এই সচেতন নারী একটি বই লিখেছেন। নাম "টপ সিক্রেট: সেক্সুয়াল গাইডেন্স ফর ম্যারিড পিপল"(Top Secret: Sexual Guidence fo Married people)। এই বইতে আরব সমাজের মানবিক সম্পর্কগুলো কতটা নোংরা হয়ে গেছে তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছ। গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এই বইটি নিয়ে আরব সমাজ দারুণ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছে। তারা এতদিন হুমকি ধমকি দিয়ে যে বিষয়টি লুকিয়ে রেখেছিল, তা তিনি প্রকাশ করে ফেলেছন। হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছেন। আর এ নিয়ে তার বিপদ হবার সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে। তার পরিবারের লোকজনও তার প্রতি বিরূপ মনোভঙ্গি প্রদর্শন করেছে। তার ভাষায়-"মানুষ বলাবলি করছে আমি পাগল হয়ে গেছি। কারণ আমি লোকজনকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে আনছি। তাই আমাকে মেরে ফেলা উচিত।" বইটি প্রকাশের পর জনসাধারণের মধ্যে যেভাবে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা লুতাহ এভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন- "এই সমস্যাগুলো প্রতিদিনই হচ্ছে। তাই এগুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এ বাস্তবতার মধ্যেই আমাদের বসবাস।"

তিনি আধুনিক সমাজের মতো ততটা খোলামেলা মনের অধিকারী নন। কিন্তু তার এই বইয়ে পায়ু সঙ্গম এবং সমকামিতার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কোরান হাদিস অনুযায়ী এইসব কাজ অত্যন্তু গুনাহকর এবং নিষিদ্ধ। কিন্তু আরবরা কোরানের বাণীগুলোকে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের বোকা মানুষদের জন্যই পালনীয় বলে মনে করে, নিজেদের জন্য নয়। তাই তারা নিজেদের জীবনে যৌনিবকৃতির চর্চা করে গেছে অবলীলায়।

ওয়াদাদ লুতাহ এই বিষয়টিকে দেখেছেন সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তার মতে- 'সৌদি আরবের মতো যেসব দেশে নারী ও পুরুষদের কঠোরভাবে পৃথক করে রাখা হয় সেখানে বিয়ের আগে পুরুষের সঙ্গে পুরুষের মিলিত হওয়ার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। আর এই সব দেশে ও সমাজে এই ধরণের ঘটনা ঘটে প্রচুর পরিমাণে। পুরুষদের প্রথম যৌন মিলনের অভিজ্ঞতা হয় আর একজন পুরুষের মাধ্যমেই। বিয়ের পরও তারা অভ্যাসবশত স্ত্রীর পায়ু সঙ্গম করতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী এতে রাজি না হলে তৈরি হয় পারিবারিক সমস্যা। আর এর মীমাংসার ভার এসে পরে লুতাহর কাধে। লুতাহ মনে করেন - এসব কারণে স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের যৌন শিক্ষা দরকার। লুতাহ বিবাহিত জীবনে নারীর যৌন সুখের (অর্গাজম) প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তার বইতে। কিন্তু ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা যেখানে রক্তচক্ষুই প্রধান, পুরুষের প্রাধান্যই মান্য সেখানে নারীর এই সমস্যাগুলো থেকে যায় উপেক্ষিত, অপ্রকাশিত ও অবদমিত। ৮ বৎসর ধরে ম্যারিজ কাউন্সেলিং করার অভিজ্ঞতা না থাকলে লুতাহ হয়তো আরবীয় মুসলমানদের এই নোংরামোর কথা জানতেও পারতেন না। লুতাহ চেয়েছন সমাজ থেকে পঙ্কিলতা দূর করতে। নারীর সুখ পাবার অধিকারকে সম্মান করতে, কিন্তু ইসলাম তাকে সেই সুযোগ দেবে কিনা তার উত্তর দেবে ভবিষ্যত।

3 comments:

aR July 26, 2009 at 6:20 PM  

খবরটা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। সৌদী আরবে যে এমন হতো তা আমি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু গণমাধ্যমে এর কোন চিহ্ন চোখে পড়েনি। এবার পড়ল। আর তাও আপনার সৌজন্যে।

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন

aR
Bangla Hacks

একজন নির্ধর্মী January 11, 2010 at 3:58 PM  

বইটা পড়ার দুর্দমনীয় ইচ্ছে হচ্ছে। গুগলে সার্চ দিয়ে শুধু আররি ভার্শনের নাগাল পেলাম :(

সাম্য রাইয়ান July 1, 2010 at 11:57 PM  

আরবে এরকম ঘটনাই স্বাভাবিক।
বইটা পড়তে ইচ্ছে করছে...

Post a Comment

পদচিহ্ন

Blog Archive

মুক্তমনা বাংলা ব্লগ

  © Dristipat

Back to TOP