বিডিআরে বিদ্রোহ, কারণ কি?

Wednesday, February 25, 2009

সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় শুনলাম যে ঢাকায় নাকি গোলাগুলি চলছে। অনেক মানুষ মারা গেছে। মাত্র গতকালপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিডিআর সপ্তাহ'র উদ্বোধন করল। সাহসী বিডিআরদের বিভিন্ন সাফল্যের জন্য পুরস্কার প্রদান করল। এর মধ্যে কি হয়ে গেল যে গোলাগুলি করতে হবে? আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। বেশ দুঃশ্চিন্তিত বোধ করলাম। শেখ হাসিনার কিছু হয়ে গেল নাতো? তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলাম। টিভিতে যা দেখলাম, তাতে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। বিডিআররা তাদের সদর দপ্তরে মিটিং চলাকালে গুলি করে বেশ কিছু কর্মকর্তাদেরকে মেরে ফেলেছে।

টিভিতে বিডিআর সদস্যরা যা বলছিলো তার সারমর্ম হলো:

  • বিডিআর এর মধ্যে অফিসার হিসেবে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া যাবে না। বিডিআরের মধ্য থেকেই অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।
  • অপারেশন ডালভাত কর্মসূচীতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অফিসাররা লাভের টাকা নিজেরা মেরে দিয়েছেন। বিডিআররা এর কোন সামান্য ভাগ পায়নি।
  • তাদের উপর বিভিন্নরকম অত্যাচার করা হয়। এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না।
  • সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানো হয়, বিডিআর থেকে পাঠানো হয় না।
  • ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রাথমিকভাবে বিডিআরদের দাবীর প্রতি আমি আমার সমর্থন প্রকাশ করছি। তাদের বঞ্চনার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। আসলেই তো, সেনা অফিসারদের স্ত্রী কন্যারা হীরামুক্তার মালা পরে আর সাধারণ জওয়ানরা সামান্য ভাতা পায়না। পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পায়না, তা কিভাবে হবে?

কিন্তু একটা প্রশ্ন মাথায় আসছে, সম্প্রতি সারা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে বিভিন্নরকম কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এই জনদাবীকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য এটা কোন চালাকি নয়তো? সাকা চৌধুরি, জামাত নেতাদের জিজ্ঞাসা করা দরকার। বিডিআরদের গন্ডগোলে হয়তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীকে সাময়িকভাবে হলেও থামিয়ে রাখা যাবে। কয়েকদিন আগে আবার এক পাকিস্তানী কুকুর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার এটা উপযুক্ত সময় নয় বলে মন্তব্য করে গেছে। তাহলে কি আরও ৫০ বৎসর অপেক্ষা করার পর উপযুক্ত সময় আসবে কিনা তা কিন্তু সে বলেনি। দেখা যাক, সামনে আরও কি ঘটনা ঘটে?

0 comments:

Post a Comment

পদচিহ্ন

Blog Archive

মুক্তমনা বাংলা ব্লগ

  © Dristipat

Back to TOP