সম্পদের কি অপচয়!!

Tuesday, December 9, 2008


বাংলাদেশের সোনারগাওতে এক শিল্পপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক আহসান উল্লাহ মনি একটি তাজমহল তৈরি করেছেন। ১২ বিঘা জমির ওপর এই তাজমহল তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এর নাম দেয়া হয়েছে 'বাংলার তাজমহল'। চলচ্চিত্র পরিচালকরা যে বুদ্ধিগত দিক দিয়ে কেমন মানুষ হয় তার প্রমাণ এই তাজমহলটি। এটা ভারতের তাজমহলের প্রমাণ সাইজের। কোন বিখ্যাত বিল্ডিং বিশেষ করে তা যদি হয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, তার মত একই আকার বা ডিজাইনে কোন বিল্ডিং বানানো অর্থাৎ নকল করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এটা নৈতিকভাবেও অন্যায়। কিন্তু শিল্পপতি এতে কোন অন্যায় দেখতে পাননি। সরাসরি বলে দিয়েছেন 'অনুমতি লাগে না।' অথচ প্রখ্যাত স্থপতিরা সবাই একবাক্যে এ ধরণের কাজকে অপরাধ বলে মনে করেন। দেশের বেশিরভাগ মানুষ যেখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। যে দেশে বিদ্যালয়, হাসপাতাল ইত্যাদির অভাব। সেখানে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য ৪০০ কোটি টাকা খরচ করাকে কি শুধুমাত্র অপচয় বলা যায়? এই টাকা দিয়ে কতগুলো হাসপাতাল বা বিদ্যালয় বানানো যেত, তার হিসাব কে করবে? এই লোক কি দেশকে - দেশের জনগণকে ভালোবাসে?

প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ

ভারতের আগ্রার তাজমহলের অনুকরণে সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ তাজমহল নির্মাণ করেছেন শিল্পপতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক আহসান উল্লাহ মনি। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে ১২ বিঘা জমির ওপর প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে "বাংলার তাজমহল"।
বাংলার তাজমহলের মূল ভবনের ভেতরে ও বাইরে স্থাপন করা হয়েছে ইতালি থেকে আনা মূল্যবান পাথর ও টাইলস। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এতে বসানো হয়েছে বেলজিয়াম থেকে আনা ১৭২টি হীরক খন্ড। এ ছাড়া গম্বুজের ওপর চাঁদ-তারা তৈরির জন্য চার মণ ওজনের ব্রোঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টুকিটাকি কিছু কাজ বাদে তাজমহলটির নির্মাণ প্রায় শেষ হয়েছে। এর চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে পর্যটকদের জন্য আধুনিক মোটেল।
আহসান উল্লাহ মনি জানান, সম্রাট শাহজাহানের অনন্য কীর্তি তাজমহল দেখতে ১৯৮০ সালে তিনি ভারতের আগ্রায় গিয়েছিলেন। তাজের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি এর আদলে নিজ দেশে একটি স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, "সম্রাট শাহজাহানের সম্মানে আমি তাজমহল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই। ২০০৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুধু আদলে নয়, আকারেও এটি মূল তাজমহলের সমান।"
প্রমাণ আকারের অনুকৃতি তৈরির জন্য ভারত সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না−এ প্রশ্নের জবাবে আহসান উল্লাহ মনি বলেন, "এ জন্য অনুমতি লাগে না।" তিনি বলেন, "ভারত থেকে কেনা তাজমহলবিষয়ক একটি বই থেকে এর নকশা নেওয়া হয়েছে। স্থপতি হানিফের তত্ত্বাবধানে বাংলার তাজমহল নির্মিত হয়েছে।"
বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত কোনো স্থাপত্য নিদর্শনের প্রমাণ আকারের নকল করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এভাবে অনুকৃতি করা নীতিগতভাবে বৈধ নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে। তবে কেউ গবেষণার জন্য বা শখের বশে ছোট করে অনুকৃতি তৈরি করতে পারেন। মোবাশ্বের হোসেনের মতো একই মন্তব্য করেন ঢাকার ঐতিহ্য তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ।
শিল্পপতি মনি আশা করেন, বাংলার তাজমহলটি সোনারগাঁয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এতে এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, ১০০ বিঘা জমিজুড়ে গোটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এখানে থাকবে বিনোদন ও শুটিং স্পট। এ ছাড়া থাকবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভাস্কর্য।
তাজমহল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাথমিকভাবে প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা।

চিন্তা করুন। শিল্পপতি ব্যবসায়িক দিকটাই শুধু ভেবেছে। নৈতিক দিকটার কথা তার মাথাতেই আসেনি।

খবরের লিংক

0 comments:

Post a Comment

পদচিহ্ন

Blog Archive

মুক্তমনা বাংলা ব্লগ

  © Dristipat

Back to TOP