সম্প্রতি মুম্মদকে নিয়ে যে সমস্যা তার প্রেক্ষিতে

Friday, October 3, 2008

আমারব্লগ.কম এ মুম্মদ নামক একজন নিকের ফাজলামীর প্রেক্ষিতে কয়েকজন সুখ্যাত ব্লগার ব্লগ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। তার প্রেক্ষিতে নিচের লেখাটি আজ লিখেছি।

মুম্মদ যা শুরু করেছিল, তা কিরকম ছিল? আপাতভাবে এই প্রশ্নটা বিশ্লেষণ করলে মনে হয় যে সেটা ছেলেমানুষি ছাড়া কিছুই নয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ এ ধরণের কাজ করতে পারে না। কিন্তু এই ছেলেমানুষির প্রতিক্রিয়ায় বুড়োখোকারা যা দেখালেন, তাতে বিস্ময়াভিভুত না হয়ে পারলাম না। নানাজনে বিভিন্নরকম মন্তব্য করেছেন। বিভিন্নরকম আচরণ করেছেন। এইসব আচরণের মধ্যে অন্যতম হল, ব্লগ ছেড়ে চলে যাওয়া। কি হাস্যকর! তাহলে বাংলাদেশ খারাপ বলে কি এদেশ ছেড়ে চলে যাব?

* কোন একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্নরকম আচরণ করা যায়। কে কোন আচরণ করবে তার প্রেক্ষিতে সেই ব্যক্তির মানসিক অবস্থাটা অনুমান করা কঠিন হয় না। সেটা মানসিক ডাক্তাররা ভাল বোঝেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, ইসলাম ও বাংলাদেশ ছাড়া অন্য সববিষয়ে খারাপ কথা মেনে নিবেন। তার মানে হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টানদের সম্পর্কে খারাপ কথাকে তিনি মেনে নেবেন।

* বাংলা ভাষা ইউনিকোড ভার্সন হয়েছে দু/তিন বৎসর হল। এর মাঝে কমিউনিটি ব্লগ বলতে একটা অদ্ভূত ব্যাপার বাংলাভাষীরা শুরু করেছে। এই স্টাইলটাইতো কেমন জানি অদ্ভূত। তার চেয়ে ফোরাম হলে ভাল হত। তাহলে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুনের বেড়াজাল থাকত। কিন্তু ব্লগে কি কোন নীতি চলে? ব্লগার ও ওয়ার্ডপ্রেসে যারা ব্লগিং করছেন, তাদের কি কোন নীতি দিয়ে বেঁধেছেদে রাখা হয়েছে?

* বাংলা ব্লগ কারা লিখবে? যারা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, বা বিদেশে থাকে কিংবা আমার মত অর্থ অপচয়কারী- তারাই, নাকি সাধারণ মানুষরাও। কোন দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বাংলা ব্লগিং ধারণাটা কাজ করবে? বাংলাদেশ নাকি ব্রাজিল? আরে, বাংলাদেশের তো এখনও ৯০%(হয়তো) মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করেনি। যখন অন্তত: ৩০ ভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করবে, ব্লগ লিখবে তখন কি করবেন? তখন আইন কানুন কোথায় থাকবে?

* কোন উদ্দেশ্য নিয়েই বা মানুষেরা (বিদেশে বিশেষত থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন) ব্লগ লেখে? ব্লগারের নেক্সট ব্লগ বাটন প্রেস করে ঘুরতে থাকুন, দেখবেন অনেকে ব্লগ দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে। সেটাই তার ওয়েবসাইট। সেটা কি সামইন, সচল, আমারব্লগে সম্ভব? না হলে কেন সাধারণ কৃষক, মুরগী/ ডিম, সবজি বা কুটির শিল্প ব্যবসায়ী ব্লগ লিখবে? পণ্যের প্রচার কিভাবে হবে?

* ইসলাম ধর্ম নিয়েই যত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আমি ইসলাম ধর্ম নামাঙ্কিত ফ্যামিলিতে জন্ম গ্রহণ করেছি বলেই যে মুসলমান হব, এ ধরণের বাজে কথা কোনদিন আমার বাবা মা শেখান নি। আমার নানা, দাদারাও শিক্ষিত মানুষ ছিলেন, তাদের মধ্যে আমি ধর্ম সম্পর্কে অনেক উদারতা দেখেছি। আমি কোরান হাদীস পড়েছি। কিন্তু কখনই আমার এই ধর্মকে ভালবাসতে বা সামান্যতম শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করে নাই। (ঈদেও নামাজ পড়িনা) আমার কাছে মনে হয়েছে ধর্ম যদি বিশ্বাস করতে হ্য়, তাহলে স্বদেশী ধর্ম বিশ্বাস করা উচিত। তাহলে দেশপ্রেম, সংস্কৃতি প্রেমটা ভণ্ডামীর দায়মুক্ত থাকে। আমার পিতামাতাও এই মত পোষণ করেন (তারা অবশ্য ইসলামী সমাজের ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না)। তারা বলেন, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বলতে শুধু অর্থনীতি ও গানাবাজনাকেই বোঝানো হয়। কেন? আরব কি পশ্চিমে নয়। ইসলাম কি সাম্রাজ্যবাদী ধর্ম নয়? তাহলে ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ কথাটা কেন ব্যবহার করা হবে না?

এমন ভাবনা যে শুধু আমি একাই ভাবি তা নয়। আমি অনেককেই এই যুক্তিটাকে সমর্থন করতে দেখেছি। বাংলাদেশ বা মুসলিম দেশগুলোতে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ বলে কেউ মুখ ফুটে কিছু বলে না। কিন্তু মনে রাখবেন, যখনই একটি সুস্থ, খোলা পরিবেশ পাবে, মানুষ চিৎকার করে এ কথা বলবে। ইরানে কি হচ্ছে? সেখানকার ৮০ ভাগেরও(ধারণা করা হয়) বেশি মানুষ ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়েছে। তারা ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে রীতিমতো ঘৃণা করতে শুরু করেছে। আরবেও গণতন্ত্রের জন্য জোর দাবী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইসলামী শাসন ধ্বংস হওয়ার সাথে সাথে ইরানের বেশিরভাগ মানুষ তাদের স্থানীয় প্রাচীন ধর্মতে ফিরে যাবে। বাংলাদেশেও এটা হবে।

* ইন্টারনেটটা সহজলভ্য হোক। মানুষ কথা বলতে শুরু করবে। তখন কিভাবে থামাবেন? কতজনের মুখ বন্ধ করবেন? এখনই দেখুন না। ১০-২০ বৎসর আগে বাংলাভাষায় নাস্তিক, ইসলামে অবিশ্বাস শব্দগুলোকে ভয়ানক বলে মনে করা হত, শুধুমাত্র কমিউনিস্টরা এর দায় পোহাত। অথচ এখন একটু বেশি পড়াশোনা করেছে এমন প্রত্যেকেই গণতন্ত্র, মুক্তমনা, উদারবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদির স্বপক্ষে কথা বলছে। মূল ইসলাম অনুযায়ী এসব কি ইসলামবিরোধী নয়?

হুজুররা ওয়াজে বলে থাকেন, বিধর্মীদের বুকে ভয় ধরায়া দিতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি আসলে ইসলামবাদীদের বুকে ভয় ঢুকে গেছে। সেজন্যই সামান্য এক মুম্মদের ইয়ার্কীতে সবারই নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আরবের তেল শেষ হওয়ার সাথে সাথে পৃথিবী থেকে ইসলাম ধর্ম বিলুপ্ত হওয়া শুরু করবে। ১/২ প্রজন্ম পরেই মানুষ বলবে মায়া (মধ্য আমেরিকার, মানুষের হৃদপিন্ড সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করত) ধর্মের মতো ইসলাম ধর্মও একটি হিংস্র ধর্ম ছিল। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে যেসব ইসলামী চিৎকার শোনা ও দেখা যাচ্ছে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তেল শেষ হওয়ার আগে প্রদীপ যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে এসবই তেমনি। ইসলাম আসলে মরণকামড় দিচ্ছে। এতে বিচলিত হবার কিছু নেই। ইসলামী অন্ধকার দূর হবেই।

* যদি আমারব্লগ.কমে আইন কানুন বানানোর কথা ওঠে, তাহলে বলব, আমি সব ধরণের মডারেশনের বিরুদ্ধে। এটাই গণতন্ত্র। এটা ইসলামী ব্লগ নয়। ইসলামী আইন আমি মানিনা। কেউ ভিন্নমত পোষণ করলেই তার হাত, পা, নাক, কান, চোখ, গলা কেটে ফেলা হবে, এ ধরণের হিংস্র ধারণার আমি চরমতম বিরোধী। কে কোন ব্লগ ছেড়ে চলে গেল, তাতে কি যায় আসে। কারও জন্য কোন কিছু ঠেকে থাকে না। ওয়াইম্যাক্স আসছে, তখন হাজার হাজার বাংলাদেশী ব্লগ লিখবে। তাদের জন্য দরজা খোলা রাখুন। কোন কিছুর নামে, অজুহাতে, কারণে, অছিলায় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাবেন না।

মুম্মদের পোস্টে কমেন্ট না করা বা কমেন্টের ফ্লাডিং করাটাই যথেষ্ট ছিল (যেমনটা রাজাকারদের সাথে করা হয়)। ফাতরার সাথে ফাতরামি করলেই হত। এর বেশি আর কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। কাল থেকে মাথা ভারী হয়ে আছে। কবি ঠিকই বলেছেন, দোজখে বাঙালিরা যেখানে থাকে সেখানে দারোয়ানের প্রয়োজন হয় না।
ধন্যবাদ সকলকে

পদচিহ্ন

Blog Archive

মুক্তমনা বাংলা ব্লগ

  © Dristipat

Back to TOP